শাপলা ফুলের রাজ্য “সাতলা” – বরিশাল

লাল আর সবুজের মাখামাখি দূর থেকেই চোখে পড়বে। কাছে গেলে ধীরে ধীরে সবুজের পটভূমিতে লালের অস্তিত্ব আরো গাঢ় হয়ে ধরা দেবে। চোখ জুড়িয়ে দেবে জাতীয় ফুল শাপলার বাহারি সৌন্দর্য। আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা।
বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম। গ্রামের নামেই বিলের নাম—সাতলা বিল(Shapla Fuler Rajjo Satla)। তবে শাপলার রাজত্বের কারণে সেটি এখন শাপলা বিল নামেই বেশি পরিচিত। ইতিমধ্যে বরিশালের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিলের কথা ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য স্থানে, বিশেষ করে শহরে ইট-
পাথরে বন্দি জীবন কাটানো মানুষ প্রশান্তির আশায় ছুটে আসে এ বিলে। শীত মৌসুমে পর্যটকের ভিড় বাড়ে।

উত্তর সাতলা নামে এ গ্রামটির প্রায় ১০ হাজার একর জলাভুমিতে শাপলার চাষ করা হয়। গ্রামের অধিবাসীদের ৭০% ই শাপলা চাষ এবং বিপণন এর সাথে জড়িত। এ গ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাপলা সরবরাহ করা হয়। ফটো গ্রাফারদের জন্য আদর্শ একটি গ্রাম সাতলা।

শাপলার সিজনঃ শাপলা হয় প্রায় ৯ মাস। মার্চ থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত শাপলার পুরো সিজন এখানে। তাই এ সময়ের মধ্যে গেলে শাপলা দেখতে পাবেন।

শাপলা দেখার আদর্শ সময় সুবহ সাদিক থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত। এরপর শাপলা ফুল বুজে ছোট হয় যায়। তাই সবচে ভালো হয় রাতে গ্রামে থাকতে পারলে ভালো হবে।

কিভাবে যাবেনঃ উত্তর সাতলা নানাভাবে যাওয়া যায়। লঞ্চে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে বাসে শিকারপুর। এরপর অটোতে উত্তর সাতলা। ঢাকা থেকে বাসে গেলে উজিরপুরের নুতনহাট নেমে সেখান থেকে অটোতে যেতে পারে। থাকতে হবে স্কুল ঘরে বা কোন গৃহস্তের বাড়িতে। অতিথিপরায়ন মানুষেরা তাতে খুশিই হবে।

কিভাবে যাবেনঃ

বরিশাল জেলাটি বাংলাদেশের দক্ষিনে অবস্থিত। ঢাকার সাথে বরিশালের সড়কপথে, নদীপথে এবং আকাশ পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে।

ঢাকা থেকে বরিশালে সড়কপথে আপনি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বেশকিছু বাস বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বেশীরভাগ বাস পাটুরিয়া ঘাট অতিক্রম করে বরিশালে যায় আবার কিছু কিছু বাস মাওয়া ঘাট অতিক্রম করে বরিশালে যায়। ঢাকা থেকে আগত বাসগুলো বরিশালের নখুলাবাদ বাস স্ট্যান্ডে থেমে থাকে।

ঢাকা থেকে বরিশালে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে আছেঃ

শাকুরা পরিবহন, ফোনঃ ০১১৯০৬৫৮৭৭২, ০১৭২৯৫৫৬৬৭৭

ঈগল পরিবহন, ফোনঃ ০২-৯০০৬৭০০

হানিফ পরিবহন, ফোনঃ ০১৭১৩০৪৯৫৫৯

ভাড়াঃ এসি বাসের ভাড়াঃ ৭০০/- টাকা; নন এসি বাসের ভাড়াঃ ৫০০/- টাকা

লোকাল বাসের ভাড়াঃ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০/- টাকা।

কোথায় থাকবেনঃ

বরিশালে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। কিছু হোটেলের তথ্য আপনার সুবিধার্থে নিম্নে প্রদান করা হলঃ

হোটেল প্যারাডাইজ টু ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮-০১৭১৭০৭২৬৮৬, +৮৮-০১৭২৪৮৫৩৫৯০

হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা, ফোনঃ +৮৮-০১৭১১৩৫৭৩১৮, +৮৮-০১৯১৭৪৫৮০৮৮

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনায়: ভ্রমণ পাগল,
সর্বশেষ আপডেট হয়েছে: ফেব্রুয়ারী 26, 2018

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.