কুতুব শাহ মসজিদ – কিশোরগঞ্জ

বাংলার স্থাপত্যের এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন অষ্টগ্রামের পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুব শাহ মসজিদ (Kutub Shah Mosque)।উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে একটি বৃহৎ দীঘির পাড়ে এখনও দণ্ডায়মান এ মসজিদটি। কুতুব মসজিদ বা কুতুব শাহ মসজিদ কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনবাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটি সুলতানী আমলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

কুতুব মসজিদটি আবিষ্কারের সময় এটিতে কোন শিলালিপি পাওয়া যায়নি বলে এর সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে তেমন ধারণা পাওয়া যায় না। তবে স্থাপত্য রীতি ও আন্যান্য দিক বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন এটি ১৬শ শতকে সুলতানী আমলে নির্মাণ করা হয়েছে।মসজিদটির পাশেই একটি কবর রয়েছে যা কুতুব শাহ-এর বলে ধরণা করা হয়ে থাকে। তার নামানুসারে মসজিদটিকে কুতুব মসজিদ বা কুতুব শাহ মসজিদ বলে ডাকা হয়।

সাধারণত এ ধরনের মসজিদ তিন গম্বুজবিশিষ্ট হয়। যেখানে মধ্যবর্তী গম্বুজের উভয় পাশে একটি করে তুলনামূলক ৰুদ্রাকৃতির গম্বুজ থাকে।

কিন্তু এ মসজিদের স্থাপত্য নিদর্শনে ভিন্ন ধরণের বিন্যাস পরিলৰিত হয়েছে। বৃহদাকৃতির একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজের চার কোণে চারটি ৰুদ্র গম্বুজ স্থাপিত হয়েছে। ফলে গম্বুজের উল্লিখিত বিন্যাস মসজিদের অভ্যন্তরভাগকে অসম তিনটি অংশে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যবর্তী অংশটির পরিমাপ ১৬ ফুট ১৬ ফুট এবং এর দুই পাশে রয়েছে ২ ফুট মার্জিন এলাকা। আর পার্শবর্তী অংশদ্বয়ের পরিমাপ ৮ ফুট ১৬ ফুট।

মসজিদের কেন্দ্রীয় গম্বুজটির মধ্যবর্তী অংশে এবং পার্শবর্তী অংশদ্বয়ের উপরিভাগ আবার দুই অংশে বিভক্ত করে প্রতিটি অংশের ওপর একটি করে ক্ষুদ্র গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে। গম্বুজসমূহ করবেল কৃত পেন্ডেন্টিভ দ্বারা সৃষ্ট। সুলতানী আমলের মসজিদের কার্নিশে এবং বাংলার দোচালা ঘরের কার্নিশে যে স্বাভাবিক বক্ররেখা পরিলৰিত হয়, এই মসজিদের ৰেত্রে তা ছিল আরও মাত্রাতিরিক্ত।

মসজিদটি বহির্ভাগে উত্তর-দৰিণে ৪৫ ফুট লম্বা, আর পূর্ব-পশ্চিমে ২৫ ফুট চওড়া। অভ্যন্তরে প্রায় ৩৬ ফুট লম্বা, আর ১৬ ফুট চওড়া। অর্থাৎ, এর চারদিকের দেয়ালই প্রায় ৫ ফুট করে পুরু। মসজিদটির চার কোণে রয়েছে চারটি অষ্টকোণাকৃতির বুরুজ। এগুলো বলয়াকার স্ফীত রেখা দ্বারা অলঙ্কৃত। এর পূর্ব দেয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দৰিণের দেয়ালে দু’টি করে কৌনাকৃতির খিলানকৃত প্রবেশপথ রয়েছে।

পূর্ব দেয়ালের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথটির উপরিভাগে সাড়ে ২৬ ফুট লম্বা ও এক ফুটের অধিক পরিমাণ চওড়া একটি অলঙ্কারহীন ফাঁপা স্থান পরিলৰিত হয়েছে, যেখানে সম্ভবত কোন লিপি যুক্ত ফলক ছিল, যা আজ আর নেই। কি ছিল, কবে থেকে নেই, এমনটিও জানাতে পারলেন না মসজিদের ইমাম সাহেবসহ স্থানীয়রা।

প্রতিটি খিলানের স্প্যান্ড্রিলে গোলাকার ফুলবিশিষ্ট টেরাকোটার অলঙ্কার রয়েছে, যা এ অঞ্চলের কারিগরদের অত্যনত্ম প্রিয় মোটিফ। মসজিদের অভ্যনত্মরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে। এগুলো সর্পিল নকশাবিশিষ্ট টেরাকোটার অলঙ্করণ দ্বারা মনোরমভাবে সুসজ্জিত। এখানে ব্যবহৃত অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি টেরাকোটার নকশা এ মসজিদের একটি উলেস্নখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের নকশা বাংলার কোন মসজিদে সম্ভবত প্রথম।

যেভাবে যাবেন :

সবচেয়ে ভালো হলো ট্রেনে যাওয়া। প্রতিদিন সকাল ৮.১০ এ এগারসিন্দুর প্রভাতি (বুধবার বন্ধ) ছাড়ে কিশোরগন্জের উদ্দ্যেশ্যে। এতে উঠে কুলিয়ারচর নেমে পরুন। ভাড়া ১১০ টাকা।

এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে তিশা এবং গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া থেকে বিআরটিসি বাসে করেও কুলিয়ারচর যাওয়া যায়। ভাড়া ২০০ টাকা। যারা ভৈরব হয়ে যেতে চান তারা ভৈরব নেমে সিএনজিতে করে কুলিয়ারচর যাবেন। শেয়ারে ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৪০ টাকা।

কুলিয়ারচর নেমে একটা রিক্সা নিয়ে চলে যান লঞ্চঘাট। এখান থেকে প্রতিদিন সকাল ৬ টা, ৮ টা, ৯ টা, ১১ টা এমনি করে ৩ টা পর্যন্ত লঞ্চ ছেড়ে যায় অষ্টগ্রাম। ভাড়া ১০০ টাকা। সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘন্টা।

তারপর অষ্টগ্রাম থানা বা ডাকবাংলোর কাছ থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়ায় ঐতিহাসিক কুতুব শাহী মসজিদে যাওয়া যায়।

আসার সময় বাজিতপুর হয়ে আসতে পারেন। বিআরটিসির এসি বাস পাবেন সারাদিন। ভাড়া ১৮০ টাকা।

 

তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনায়: ভ্রমণ পাগল,
সর্বশেষ আপডেট হয়েছে: ফেব্রুয়ারী 3, 2018

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.